বোনদের উদ্দেশ্যে একটি হৃদয়ছোঁয়া বার্তা ।

 




একটি জরিপে যদি ১০০ জন মেয়েকে জিজ্ঞেস করা হয় এই দুনিয়ায় তোমার সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তি কে?

তাহলে দেখা যাবে, অন্তত ৯৫ জন-ই বলবে: "আমার বাবা"।

কেউ কেউ তো তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইলে লিখে রাখে—"Daddy's Princess"।

এই ভালোবাসা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।


কিন্তু একটুখানি ভাবো, হে প্রিয় বোন...

যদি তোমার কারণেই তোমার প্রিয় বাবা গুনাহগার হন?

তখন কেমন লাগবে তোমার?


হয়তো তুমি অবাক হবে শুনে—কেন বা কীভাবে তোমার কারণে তোমার বাবা গুনাহগার হতে পারেন?


তুমি যখন বেপর্দা অবস্থায় চলাফেরা করো, সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ছবি প্রকাশ করো, নিজেকে সবার সামনে তুলে ধরো—তখন শুধু তুমি নয়, তোমার বাবা-ও গুনাহের ভাগীদার হচ্ছেন।

কারণ, ইসলামে মেয়ের পর্দার দায়িত্ব প্রধানভাবে বাবা বা অভিভাবকের ওপর বর্তায়।


রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:

"তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল, এবং প্রত্যেকের কাছেই তার দায়িত্বসম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। একজন পুরুষ তার পরিবার-পরিজনের অভিভাবক, এবং সে তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।"

(সহীহ বুখারী: ৮৯৩, সহীহ মুসলিম: ১৮২৯)


আর যদি কেউ নিজের পরিবারের মহিলাদের বেপর্দা বা অশালীন অবস্থায় চলাফেরা করতে দেয়, তাহলে সে একজন "দাইয়ুস" হিসেবে গণ্য হবে।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:

"আল্লাহ দাইয়ুসকে জান্নাতে প্রবেশ করতে দিবেন না।"

(নাসাঈ: ২৫৬২, হাকিম: সহীহ)

"দাইয়ুস" হলো সেই ব্যক্তি, যে তার পরিবারের নারীদের অনাচার ও অশ্লীলতা মেনে নেয়।


তাই হে প্রিয় বোন,

তুমি কি সত্যিই চাও—তোমার প্রিয় বাবা জাহান্নামে যান?

তুমি কি চাও—তোমার কারণে তিনি আল্লাহর গজবের শিকার হন?


নিশ্চয়ই না।


তাহলে এখনই পরিবর্তন হও।

পর্দাহীনতা, অসংযত চলাফেরা, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি আপলোড—এসব থেকে নিজেকে বিরত রাখো।

কারণ এতে শুধু তোমার বাবা নয়, তুমি নিজেও গুনাহগার হচ্ছো।


আজই সিদ্ধান্ত নাও—

আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে চলবে,

তোমার প্রিয় বাবার জান্নাতের পথ সহজ করবে।


লেখা: মেহরাব হোসেন

তারিখ: ২০/০৫/২০২৫ ইং