জীবনের উদ্দেশ্য কী হওয়া উচিত?
তুমি কি কখনও ভেবে দেখেছো, তুমি এ পৃথিবীতে কেন এসেছো? শুধু খাওয়া, ঘুমানো, পড়ালেখা আর একদিন মরে যাওয়ার জন্য? তুমি কি সত্যিই এত সাধারণ কেউ, যার জীবনে কোনো বড় উদ্দেশ্য নেই?
চলো, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজি – আল্লাহ কেন আমাদের সৃষ্টি করেছেন?
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কুরআনে বলেন:
আর আমি সৃষ্টি করেছি জিন এবং মানুষকে এজন্যেই যে, তারা কেবল আমার ইবাদাত করবে।আমি তাদের কাছ থেকে কোন রিযিক চাই না এবং এটাও চাই না যে, তারা আমাকে খাওয়াবে।(১)
এই আয়াতটি আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় — আমরা দুনিয়াতে এসেছি শুধুমাত্র আল্লাহর ইবাদতের জন্য। এটাই আমাদের আসল পরিচয়, এটাই আমাদের জীবন লক্ষ্য।
ইবাদত মানেই কি শুধু নামাজ-রোজা?
এখানে অনেকে প্রশ্ন করতে পারে:
“তাহলে কি সারাদিন শুধু নামাজ, রোজা এসবই করবো? অন্য কিছু করা যাবে না?”
অবাক হলেও সত্য, হ্যাঁ — আমাদের সারাদিন ইবাদতেই কাটানো উচিত! কিন্তু রাগ কোরো না — আগে শুনে দেখো “ইবাদত” আসলে কী।
ইবাদত মানে শুধু নামাজ-রোজা নয়!
ইবাদত মানে হচ্ছে — আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী, হালাল পথে চলা। তোমার প্রতিদিনের ছোট ছোট কাজগুলোও যদি আল্লাহর জন্য হয় — সেগুলোও ইবাদত।
চলো, দুটি বাস্তব উদাহরণ দেখি:
১. রাস্তা থেকে কোন কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে রাখা:
তুমি রাস্তায় হাঁটছিলে। হঠাৎ চোখে পড়লো — রাস্তায় একটি ডাল পড়ে আছে। তুমি ভাবলে, “এটা সরিয়ে দিলে পথচারীরা সহজে চলতে পারবে।” তুমি ডালটা সরিয়ে দিলে। এই ছোট কাজটাও ইবাদত! কারণ, তুমি এটা করেছো ভালো নিয়তে, মানুষের উপকারে এবং আল্লাহ এটিকে পছন্দ করেন।
২. চাকরিতে দায়িত্ব পালন:
তুমি একটি অফিসে চাকরি করো — ৮ ঘণ্টার ডিউটি। যদি তুমি ৭ ঘণ্টা কাজ করো আর ১ ঘণ্টা ফাঁকি দাও সেই ১ ঘণ্টার বেতন তোমার জন্য হারাম।
আর যদি তুমি পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে ৮ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করো — তোমার পুরো আয় হবে হালাল।
এবং এই হালাল উপার্জনও ইবাদত, যদি তুমি মনে রাখো: “আমি আল্লাহকে খুশি করার জন্য সততা রক্ষা করছি।”
তাহলে জীবনের উদ্দেশ্য কী হওয়া উচিত?
এখন নিশ্চয়ই বুঝতে পারছো — জীবনের উদ্দেশ্য হলো: আল্লাহকে সন্তুষ্টি রাখা, হালাল পথে চলা, এবং জান্নাতকে লক্ষ্য বানানো।
আমাদের কাজ, পড়াশোনা, আচার-আচরণ — সবকিছুই হতে হবে আল্লাহর দিকনির্দেশনা অনুযায়ী।
তাহলে প্রতিটি দিন হবে ইবাদত, প্রতিটি কাজ হবে সওয়াবের পুঁজি।
শেষ প্রশ্নটা তোমার জন্য:
জীবনের উদ্দেশ্য কোথায় যাবে, সেটা এখন তোমার সিদ্ধান্তে নির্ভর করছে। তুমি কী বেছে নেবে? জান্নাত নাকি জাহান্নাম?
“তোমার জন্য এই খোলা চিঠি — উত্তরটা তুমি নিজেই দাও।”
রেফারেন্স:
১.সূরা আয-যারিয়াত (৫৬-৫৭)
লেখা: মেহরাব হোসেন।
