হারামকে কত সহজ করে আমরা প্রমোট করছি।

 











বর্তমানে প্রায় প্রত্যেকটা জেলাতেই লক্ষ্য করলে দেখা যায়, “Crush”, “Confession” নাম দিয়ে বিভিন্ন পেজ খোলা হয়েছে। নাম ভিন্ন হলেও কাজ প্রায় একই। সেখানে এমন সব লেখা প্রকাশ করা হয়, যেখানে ছেলে-মেয়েদের গোপন আকর্ষণ, সম্পর্কের ইঙ্গিত, কিংবা সরাসরি হারাম ভালোবাসার কথা তুলে ধরা হয়। বিষয়গুলো এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যেন এগুলো খুব স্বাভাবিক, মজার বা ট্রেন্ডের অংশ।


আরও দুঃখজনক বিষয় হলো, অনেক ক্ষেত্রে কারো অনুমতি ছাড়াই তার ছবি তুলে পোস্ট করা হচ্ছে। এরপর সেখানে লেখা হচ্ছে – “তার চোখের মায়ায় পড়ে গেছি”, “তার হাসিটা খুব ভালো লাগে”, “আমি তাকে অনেকদিন ধরে ফলো করছি” ইত্যাদি ইত্যাদি। একজন মানুষ জানেই না তার ছবি কোথা থেকে তুলে এনে প্রকাশ করা হচ্ছে, অথচ তাকে নিয়ে প্রকাশ্যে এভাবে কথা বলা হচ্ছে। এটা শুধু বেহায়াপনাই নয়, অন্যের সম্মান নষ্ট করারও একটি মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে।


ইসলামে একজন মুমিনকে তার দৃষ্টি সংযত রাখতে বলা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, মুমিনদেরকে বলো তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং নিজেদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। (সূরা আন-নূর ২৪:৩০)। আবার হাদিসে এসেছে, চোখেরও যিনা আছে, আর চোখের যিনা হলো হারাম জিনিসের দিকে তাকানো। এখন একটু চিন্তা করলে দেখা যায়, আমাদের কী করার কথা ছিল আর আমরা কী করছি! একজন মুমিনের দায়িত্ব ছিল দৃষ্টি সংযত করা, কিন্তু সেখানে আমরা কী করছি? একজন মেয়ের ছবি গোপনে তুলে তাকে নিয়ে কয়েক লাইন লিখছি, নিজের আকর্ষণ প্রকাশ করছি, আবার সেটাকে শত শত মানুষের সামনে ছড়িয়ে দিচ্ছি।


একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের মনে রাখা উচিত, লজ্জা-শরম (হায়া) ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু এসব পেজের মাধ্যমে ধীরে ধীরে হারাম সম্পর্ককে স্বাভাবিক করে দেওয়া হচ্ছে। মানুষ ভাবতে শুরু করছে, এগুলো খুব সাধারণ বিষয়, যেন এতে কোনো সমস্যা নেই। অথচ এভাবেই অন্তর ধীরে ধীরে গুনাহের প্রতি দুর্বল হয়ে যায়।


আর এসব পোস্টের কমেন্টগুলো দেখলে সত্যিই অনেক আফসোস লাগে। মুসলিম ছেলে-মেয়েগুলো আজ কোন পর্যায়ে চলে গেছে, সেটা সহজেই বোঝা যায়। কেউ উৎসাহ দিচ্ছে, কেউ মজা নিচ্ছে, আবার কেউ আরও এমন কাজ করার জন্য অনুপ্রাণিত করছে। বিষয়টি ধীরে ধীরে আমাদের সমাজে নির্লজ্জতাকে স্বাভাবিক করে দিচ্ছে।


আমরা যদি সত্যিই নিজেদের ঈমানকে গুরুত্ব দিই, তাহলে অন্তত এমন কন্টেন্ট থেকে দূরে থাকা উচিত, যেগুলো আমাদের অন্তরকে দুর্বল করে দেয় এবং হারামের প্রতি আগ্রহ বাড়ায়। বিনোদনের নামে এমন কিছু অনুসরণ করা ঠিক নয়, যা আমাদের লজ্জাবোধ নষ্ট করে দেয়।


সত্যি বলতে, আমার যদি ক্ষমতা থাকতো, আমি এই ধরনের প্রত্যেকটা পেজ বন্ধ করে দিতাম।


আমাদের করণীয়:


• এসব পেজ থেকে নিজে বিরত থাকা এবং আনফলো করা।

• বন্ধুদের নিরুৎসাহিত করা, যেন তারা এসব কনটেন্টে অংশ না নেয়।

• বাসায় ছোট ভাই-বোন থাকলে তাদের বোঝানো যে এগুলো ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম এবং ক্ষতিকর।

• নিজের দৃষ্টি সংযত রাখার চেষ্টা করা এবং অনলাইনে অপ্রয়োজনীয় ঘোরাঘুরি কমানো।

• কারো অনুমতি ছাড়া ছবি তোলা বা শেয়ার করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা।

• এমন পরিবেশ তৈরি করা যেখানে হালাল সম্পর্ক ও লজ্জাশীলতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

• বেশি বেশি দ্বীনী জ্ঞান অর্জন করা, যাতে ভালো-মন্দ পার্থক্য করা সহজ হয়।


আল্লাহ আমাদের সবাইকে দৃষ্টি সংযত রাখার তাওফিক দিন, হায়া রক্ষা করার তাওফিক দিন এবং হারাম বিষয় থেকে দূরে থাকার শক্তি দান করুন।


লেখা: মেহরাব হোসেন।